• ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০২৪

হিটস্ট্রোকে মারা গেলো ১৭ চাষির মাছ, ক্ষতি আড়াই কোটি টাকা

গত এক সপ্তাহে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ১৭ জন চাষির ৪৮৪টি খাঁচার সব মাছ মারা গেছে। বড়াল নদীতে স্থাপন করা এসব খাঁচায় গত এক সপ্তাহ ধরে এ মড়ক চলে। এতে চাষিদের প্রায় ২ কোটি ৬১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। অতিরিক্ত গরমে খাঁচাগুলোতে প্রচুর গ্যাস জমে অক্সিজেন কমে যায়। এতে হিটস্ট্রোকে মাছ মারা গেছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

জানা গেছে, ফরিদপুর উপজেলার পুঙ্গলী ইউনিয়নের আগপুঙ্গলী এবং দত্তপুঙ্গলী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস, ফরিদ মাষ্টার, সুকুমার হলদার, বিউল ইসলাম, রকিবুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, দত্তপুঙ্গলী গ্রামের কবির হোসেন, কামরুল হোসেনসহ ১৭ জন মাছচাষি বড়াল নদীতে মাছ চাষ করেন। গত প্রায় ৭-৮ বছর ধরে তারা খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছ চাষ করে আসছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগের বছরগুলোতে তারা মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা খাঁচায় ছেড়ে প্রতি ৪ মাস পর পর প্রতি খাঁচা থেকে ৮ থেকে ১০ মণ মাছ আহরণ করতেন। এসব মাছ প্রতিমণ ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পাইকারি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতেন। এ আয় থেকেই তাদের সংসার চলতো। এ বছর মাছের দাম বেশি। সে হিসাবে তাদের লাভও বেশি হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু গত ২১ এপ্রিল থেকে হঠাৎ করে খাঁচার মাছ মারা যেতে থাকে। মাছচাষিরা স্থানীয় বাজার থেকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে ব্যবহার করেও মড়ক ঠেকাতে পারেননি। ২৭ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত তাদের সব খাঁচার সব মাছ মরে গেছে। ৪৮৪টি খাঁচার মাছ মারা যাওয়ায় বড়াল নদীর এক বিশাল এলাকা জুড়ে পানিও ফেনাযুক্ত দুর্গন্ধ হয়ে গেছে।

খাঁচায় মাছচাষ সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রায় ৭-৮ বছর ধরে এভাবে মাছচাষ করে আসছি। কিন্তু এত বড় সর্বনাশ হয়নি। আমরা ১৭ জন মাছচাষি সবাই ফরিদপুর বাজার থেকে বাকিতে ওষুধসহ খাবার নিয়ে থাকি। এতে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা দেনা রয়েছে। এখন এ দেনা পরিশোধ করা কঠিন হবে।

সমিতির সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, প্রতি খাঁচা থেকে ৮ থেকে ১০ মণ মাছ পাওয়া যায়। এ হিসাবে ৪৮৪টি খাঁচার প্রতিটি থেকে গড়ে ৯ মণ করে ধরলে ৪৩৫৬ মণ মাছ পাওয়া যেত। প্রতি মণ মাছের স্থানীয় বাজার মূল্য ৬ হাজার টাকা করে মোট মূল্য হবে প্রায় ২ কোটি ৬১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

১০০টি খাঁচায় মাছচাষ করা লঙ্কা হলদার বলেন, আমরা সবাই গরিব মাছচাষি। আমাদের এ সর্বনাশের ফলে আমরা দেনাও শোধ করতে পারবো না, সংসারও চালাতে পারবো না। সরকার যদি আমাদের সহায়তা করে তাহলে আমরা কিছুটা বাঁচতে পারবো।

পাবনার ফরিদপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, এ পদ্ধতিতে মাছচাষ করতে পানি প্রবাহমান থাকতে হয়। বেশ কিছুদিন পানি বদ্ধ থাকায় এবং অতিরিক্ত গরমে খাঁচাগুলোতে প্রচুর গ্যাস হয়ে অক্সিজেন কমে গিয়েছিল। ফলে হিটস্ট্রোকে মাছগুলো মারা গেছে। এতে মাছ চাষিদের অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

Rent for add