• ঢাকা, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

কৃষক থেকে উদ্যোক্তা

শুধু জৈব সার ব্যবহার করে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে পবিবারের ভাগ্য বদল করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের দশকানি গ্রামের কুলসুম বেগম। এখন তাকে দেখে আশপাশ গ্রামের নারীরা নিজ বাড়িতে সবজি আবাদ শুরু করেছেন। অদম্য চেষ্টা আর পরিবারের লোকদের সহায়তায় তিনি এখন একজন সফল চাষি।

কৃষক পরিবারে জন্ম কুলসুম বেগমের। বাবার বাড়ি লালুয়া ইউনিয়নের চাড়িপাড়া গ্রামে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। ২০০৪ সালে পাশের গ্রামের মো. সেলিম হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে হয়। বাবার বাড়িতে কখনও কাজ করেননি।

বিয়ের পর শাশুড়ির কাছ থেকে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের জায়গায় সবজি চাষ শিখতে থাকেন। প্রথমবার সবজি চাষ করে ভালোই ফলন পান, নিজের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়। সংসারের চাহিদা মেটানোর পর প্রতিবেশীদেরও দেন। এরপর থেকে বাড়ি ছাড়া নিজেদের আরও ৩০ শতক জমিতে ধান চাষ করেন।

ধান ওঠার পর সেই জমিতে মরিচ, মুগ ডাল, মিষ্টিকুমড়া, বেগুনের চাষ করেছেন। ভালোই ফলন পেয়েছেন। বাড়িতে বসেই তিনি উৎপাদিত পণ্য পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। কখনও কখনও তার স্বামী বাজারে নিয়েও বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু বাড়ি থেকে বিক্রি করে উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন না। আবার স্বামীর কাছে দিলে বিক্রিকৃত অর্থ পুরোটা ফেরত পাচ্ছেন না। যদি বাজারে নারীদের পণ্য বিক্রি করার মতো পরিবেশ থাকত তাহলে তাদের জন্য উপকার হতো।

কুলসুম বেগম বলেন, ‘নারীবান্ধব বাজার সৃষ্টি হলে আমরা নারীরাই নিজেদের ফসল বাজারে বিক্রি করতে পারতাম; যেখানে নারীর জন্য আলাদা পয়ঃনিষ্কাশনসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’

বর্তমানে কুলসুম বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, কাঁকরোল, কচু, চাষ করছেন। অন্য মৌসুমে বিভিন্ন ফসলও আবাদ করেন। কুলসুম জানান, রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে মাটির ধরন পাল্টে যায় এবং পরের বছর আরও বেশি মাত্রায় প্রয়োগ করতে হয়। তাদের এলাকার মাটি লবণাক্ত। রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটি শক্ত হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়।

এ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিন্তিত ছিলেন। এ ছাড়া রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ চলাকালীন বাজারে সারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল কয়েকগুণ। সব মিলিয়ে লাভের খাতায় অনেকটা শূন্য হিসাব ছিল তার।

পরবর্তী সময়ে তিনি তার গ্রামের পায়রা রিফ্লেকশন অ্যাকশন গ্রুপ থেকে জানতে পারেন, বাসায় প্রস্তুত করা যায় জৈব সার। এ কারণে জৈব সার ব্যবহার করে ফসল আবাদ করছেন। জৈব সার বাড়িতেই উৎপাদন করা যায়। ফলে তাকে টাকা দিয়ে কিনতে হয় না এবং বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয় না।

এতে মাটির গুণাগুণ ভালো থাকে। ফলন ভালো হয় এবং বিষমুক্ত থাকে। কৃষিকাজের পাশাপাশি কুলসুম বেগম বিভিন্ন ফসলের বীজও সংরক্ষণ করেন। তার নিজ জমির ফসল থেকে বীজও সংরক্ষণ করেন। পরে সেই বীজ নিজের জমিতে রোপণ করেন। এতে ভালো ফলন পাওয়া য়ায়। কৃষিকাজের পাশাপাশি কুলসুম গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করেন। এর থেকেও তার ভালো আয় হয়; যা দিয়ে দুই ছেলের লেখাপড়া, সংসারের খরচ ভালোভাবেই চলছে।

দক্ষ কৃষক হিসেবে ‘একশনএইড বাংলাদেশ’-এর অর্থায়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আভাস’-এর সহায়তায় ১০ জন নারী কৃষককে নিয়ে গঠন করেছেন পায়রা রিফ্লেকশন অ্যাকশন গ্রুপ, কুলসুম বেগম সেই গ্রুপের সভাপতি। এই গ্রুপের সদস্যরা উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে জৈব কম্পোস্ট ও কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তারা এ বছর ১২০ শতক জমি এক বছরের জন্য লিজ নিয়ে বাদাম ও মুগ ডাল চাষ করেন।

Rent for add